Tuesday , 17 October 2017
Breaking News

বিকাশের ২ হাজার ৮৮৭ এজেন্ট হিসাব বন্ধের নির্দেশ সরকারের পক্ষ থেকে

আমাদের পোস্টটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকায় মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের ২ হাজার ৮৮৭টি এজেন্টের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ১ হাজার ৮৬৩টি গ্রাহক হিসাব বন্ধেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী এসব সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

বিকাশের এজেন্টদের বিষয়ে নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত কার্যকরের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার তা চিঠি ও সিডি আকারে বিকাশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত এজেন্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকেও (সিআইডি) আলাদাভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

দেশে-বিদেশে প্রবাসী আয় বিতরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক বিশেষ পরিদর্শনে বিকাশের এসব এজেন্টের বিরুদ্ধে অনিয়ম ধরা পড়ে। দেশে প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম খুঁজে বের করতে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরব পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, একজন এজেন্টের একাধিক ব্যক্তিগত হিসাব থাকার সুযোগ নেই। কিন্তু বেনামে বিকাশের ৮০ হাজার এজেন্ট ৬ লাখ হিসাব পরিচালনা করছে। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘বিকাশের বেশ কিছু হিসাব স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের অনেক এজেন্ট একাধিক হিসাব পরিচালনা করছে, তা–ও বন্ধ করতে বলা হয়েছে। ধীরে ধীরে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও একই নির্দেশনা যাবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব কারণে প্রবাসী আয় কমছে, তার মধ্যে অন্যতম অবৈধ হুন্ডি তৎপরতা বৃদ্ধি। এ ক্ষেত্রে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা বিদেশে অর্থ সংগ্রহ করছেন এবং স্থানীয় মুদ্রায় (টাকায়) বিকাশের মাধ্যমে বিতরণ করছেন। এ জন্য মোবাইল অ্যাপস ও কম্পিউটারনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অবৈধ অর্থায়নের সঙ্গে যেসব এজেন্ট যুক্ত, তাদের হিসাবে কোনো অর্থ উত্তোলন হয় না, শুধু অর্থ জমা হয়।

বিকাশের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স শামসুদ্দিন হায়দার বলেন, ‘অনিয়ম পেলে আমরা নিয়মিত ভিত্তিতে এজেন্ট ও গ্রাহক হিসাব বন্ধ করে থাকি। তারপরও বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো নির্দেশনা দিলে তা অবশ্যই পালন করা হবে।’ 

আমাদের পোস্টটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*