Monday , 18 December 2017
Breaking News

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট খেলবেন না সাকিব

আমাদের পোস্টটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট খেলবেন না সাকিব— খবরটি শোনার পর ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছেন।

কেউবা সমালোচনা করছেন। বিষয়টিকে বিভিন্ন জনে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন। অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ থেকে সড়ে দাঁড়ানোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। গতকাল তার বনানীর বাসায় সাকিব মিডিয়াকে বলেন, ‘সব থেকে বড় কারণ হচ্ছে, আমি মনে করি আমার আরও অনেকদিন খেলা বাকি আছে এবং আমি যদি ওটা খেলতে চাই এবং ভালোভাবে খেলতে চাই, তাহলে এই বিশ্রামটা আমার জরুরি। ’

সাকিব ছয় মাস টেস্ট না খেলার জন্য বিসিবির কাছে আবেদন করেছেন। বিসিবি তাকে আপাতত দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দুই টেস্টের জন্য তাকে বিশ্রাম দিয়েছে। সাকিবকে ছাড়াই ১৫ সদস্যের টেস্ট দলও ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সাকিবের জন্য দরজাও খুলে রেখেছে বিসিবি। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার যদি চান তিনি ফিরতে পারবেন যে কোনো সময়। প্রথম টেস্টের পর সাকিব যদি মনে করেন তিনি ফিরবেন, তাহলে ফিরতে পারবেন। কিন্তু দেশসেরা তারকা চাচ্ছেন বিশ্রাম করতে। সাকিব বলেন, ‘আমি চাইলেই খেলতে পারি। কথা হচ্ছে, আপনারা কি চান যে আমি আরও ৫-৬ বছর খেলি নাকি ১-২ বছর? নির্ভর করছে সেটার ওপর। আমি যেটা অনুভব করি, এভাবে খেলতে থাকলে ১-২ বছরের বেশি খেলতে পারব না। ওভাবে খেলার থেকে না খেলা আমার কাছে ভালো। যতদিন খেলব, ততদিন যেন ভালোভাবে খেলতে পারি। সেটিই লক্ষ্য আমার। সেই কারণেই এই বিরতিটা পেলে আমি আবার তরতাজা হয়ে ও শারীরিকভাবে যতটা না, তার চেয়ে বেশি মানসিকভাবে চাঙ্গা হয়ে ফিরলে হয়তো পরের পাঁচ বছর আমার টেনশন ছাড়া খেলা সম্ভব হবে। যেটা আমি মনে করি বেশি গুরুত্বপূর্ণ একটি-দুটি ম্যাচ বা একটি-দুটি মাস না খেলা থেকে। ’

দুই টেস্ট না খেললেও সাকিব ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজে খেলবেন। যদি ওয়ানডে ও টি-২০-এর জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় যেতেই হয় তবে কেন তিনি টেস্ট খেলবেন না? সাকিবের ব্যাখ্যা, ‘দুটি টেস্টের পরও যদি যাই, প্রায় এক মাসের একটি বিরতি হয়ে গেল কিন্তু। এরকম বিরতি আমি গত ৩-৪ বছরে পাইনি। আমার জন্য এটি অনেক বড় বিরতি আমি মনে করি। আমি বিসিবিকে ধন্যবাদ জানাই যে তারা আমার ব্যাপারটি বুঝতে পেরেছেন। যেভাবে আপনাদের বললাম, আমি তাদের সেটি বুঝিয়ে বলার পর, তারা বলেছে যে ঠিক আছে, আইডিয়া ভালো আছে। কারণ দিন শেষে আমার শরীর আমি যে কারও চেয়ে ভালো বুঝতে পারব। আমার এটা ম্যানেজ করার দরকার আছে। এই কারণেই এই সিদ্ধান্ত। ’

সাকিব চেয়েছিলেন ছয় মাসের বিশ্রাম। আর আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশে খেলবে চারটি টেস্ট। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর বাংলাদেশে আসবে শ্রীলঙ্কা। তাদের বিরুদ্ধে দুটি টেস্ট আছে। তবে সেই সিরিজে সাকিব খেলবেন কিনা সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বিসিবি। সাকিব বলেন, ‘ছয় মাসের জন্যই আবেদন করেছি। এখন এই সিরিজের পর দুটি টেস্ট ম্যাচ আছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এখন পর্যন্ত এবারের দুটি টেস্ট অনুমতি দিয়েছে। এরপর যখন খেলা শুরু হয়ে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা, বিপিএল, তার পর ওই সময়টা চিন্তা করব যে ওই দুটি টেস্ট খেলব কি খেলব না। সেভাবে কথা বলব তখন। তার পর যদি তারা মনে করে যে আমার খেলার দরকার বা আমার নিজের যদি মনে হয় যে মানসিকভাবে এমন অবস্থায় আছি যে পুরোটা দিতে পারব, তখন অবশ্যই খেলব। ’

ওয়ানডে ও টি-২০ খেলবেন কিন্তু টেস্ট খেলবেন না! এর পেছনে ব্যাখ্যা কী? সাকিব বলেন, ‘সীমিত ওভারের খেলা ১ ঘণ্টার হয় বা ৩ ঘণ্টার হয়। টেস্ট ম্যাচ ৫ দিনের হয়, প্রস্তুতি আরও ১০-১৫ দিনের হয়, প্রস্তুতি ম্যাচ ৩ দিনের থাকে। তো একটি টেস্ট সিরিজ থেকে বিশ্রাম নিলে পাওয়া যায় এক মাসের বিরতি। টি-২০ থেকে বিশ্রাম নিলে পাওয়া যায় ৩ দিনের বিরতি, ওয়ানডে সিরিজ থেকে বিশ্রাম নিলে পাওয়া যাবে ৭ দিনের বিরতি। আমার একটু বড় বিরতি দরকার। এই কারণেই টেস্ট সিরিজে বিশ্রাম। ’

সাকিব টেস্ট থেকে বিশ্রাম নিচ্ছেন। কারণ টেস্টে বেশি টাকা নেই কিংবা টি-২০-তে অনেক টাকা আছে বলেই বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-২০-তে খেলছেন—ভক্তদের মনে এমন না কল্পনা জল্পনা! এ বিষয়ে সাকিব বলেন, ‘ওয়ানডে, টি-২০-তে কেন বিশ্রাম নিলাম না, বাইরের টি-২০ কেন নিলাম না, এই প্রশ্নগুলো আসলে একটু অবাকই লাগে। কারণ আমি যখন বাইরের টি-২০ খেলি, তখন না কোনো চাপ আছে, না কোনো ভাবনা আছে। আমার কছে মনে হয় হলিডে ধরনের। সঙ্গে একটা অভিজ্ঞতাও হয়। অর্থনৈতিক দিক অবশ্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও থাকে। টেস্ট ম্যাচে আমার যেটা হয় যে যেহেতু আমি ব্যাটিং-বোলিং দুটিই করি, চারটা ইনিংসেই আমার অবদান রাখার দরকার হয়। দলও আশা করে। যদি আমি অর্ধেক অবদান রাখতে পারলাম, অর্ধেক পারলাম না, তাহলে দল যেটা আশা করে সেটা তো পুরো দিতে পারলাম না। পুরোটা না দিতে পারা আমার মনে হয় না ভালো দিক। আমি যখন চারটা ইনিংসেই ভালো করতে পারব এবং আমার মনে হবে সেই সামর্থ্য আমার আছে বা সেই ইচ্ছাটাও থাকবে, আমার মনে হয়, তখনই খেলার সেরা সময়। আমি তো চাইলেই খেলতে পারি। ম্যাচ ফি পাব, পারিশ্রমিক পাব। সবই পাব। কিন্তু ওভাবে খেলাটা আমার মনে হয় না খুব একটা গুরুত্ব বহন করে আমার কাছে। ’

এমন গুঞ্জনও উঠেছে, সাকিব হয়তো আর টেস্টে ফিরবেন না! কিন্তু গতকাল এই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, ‘এমন তো নয় যে আমি আর ক্রিকেটই খেলছি না! অবশ্যই খেলব। কেন খেলব না! আমার ইচ্ছে আছে, সবার পরে টেস্ট থেকে অবসর নেব। তার আগে টি-২০ ও ওয়ানডে থেকে অবসর নেব। ’

আমাদের পোস্টটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*